ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন
ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ২,৩০০ আদিবাসীসহ আনুমানিক ৪০ হাজার ব্যক্তিকে (৯,৭৬০ পরিবার) পর্যায়ক্রমে পুনঃস্থাপন ও পুনর্বাসন করার প্রয়োজন হবে। প্রকল্পের প্রথম ১০ বছরে পর্যায়ক্রমে এ কাজ সম্পন্ন হবে। এ ধরনের বৃহদাকার প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার রক্ষায় বিদ্যমান আইন ও রীতি যথেষ্ট না হওয়ায় এশিয়া এনার্জি আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম রীতি-নীতি অনুসরণ করে প্রকল্পের পুনঃস্থাপন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পরিকল্পনা অনুসারে প্রকল্পের কারণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্তরা যাবতীয় ক্ষতির জন্য সময়মত যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাবেন এবং মানসম্মত পুনর্বাসন ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। বৈধ মালিকদের পাশাপাশি, সরকারি সম্পত্তিতে বসবাসকারী বা মালিকানা দলিলবিহীন ভূমি/সম্পত্তি ব্যবহারকারীরাও ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবেন না। যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা থাকায় প্রকল্প এলাকার মানুষের জীবনমান বর্তমানের চেয়ে কোনক্রমে অনুন্নত নয়, বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হবে উন্নততর।
প্রকল্পের পুনর্বাসন পরিকল্পনার বৈশিষ্ট্য/মূলনীতিসমূহ
ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া হবে দ্রুত, যখাযখ ও স্বচ্ছ।
যখাযখ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা ব্যতীত ক্ষতিগ্রস্তদের ও কোন স্থানান্তর হবে না।
পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রকল্প নির্ধারিত গ্রাম ও নতুন শহর কিংবা নিজস্ব পছন্দের জায়গা বেছে নেয়ার সুযোগ থাকবে।
সকল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ন্যায্য, উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সহযোগিতা পাবেন।
ক্ষতিপূরণ সম্পদের প্রতিস্থাপন মূল্যে (বাজার মূল্য ও হস্তান্তর বাবদ ব্যয়) প্রদান করা হবে।
জমি ও সম্পদের ক্ষতিপূরণের সঙ্গে নিয়মিত আয়ের অস্থায়ী ক্ষতিজনিত এবং স্থানচ্যূতির কারণে পৃথক অনুদান দেয়া হবে।
আধুনিক পরিকল্পিত শহর ও গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ, পানি, পয়:নিস্কাশন, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সকল নাগরিক সুযোগ সুবিধা থাকবে এবং লোকদের স্থানান্তরের পূর্বেই এগুলো তৈরী থাকবে।
গৃহের মালিকদের প্রকল্প নির্ধারিত এলাকায় উন্নত সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নতুন ঘর তৈরী করে দেয়া হবে অথবা নিজের পছন্দ মত অন্যত্র ক্রয় করার জন্য বাজার মূল্যে নগদ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।
ভূমিহীনদের মালিকানা দলিলসহ প্রকল্প নির্ধারিত এলাকায় আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে যাতে নিশ্চিত করা যায় ভবিষ্যতে তারা জোপূর্বক কোন ধরনের স্থানচু্যতির মুখোমুখি হবেন না।
ঝুঁকিপ্রবণ গোষ্ঠি হিসাবে আদিবাসী, মহিলাপ্রধান পরিবার, বৃদ্ধ ও অক্ষমদের জন্য অতিরিক্ত অনুদানের ব্যবস্থা থাকবে।
পুন:স্থাপন ও পুনর্বাসন পরিকল্পানার বাস্তবায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি স্বাধীন পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে।
একটি সামাজিক বিনিয়োগ তহবিল গঠনের মাধ্যমে জীবিকা বহুমূখীকরণ ও উন্নয়ন উদ্যোগে সমর্থন ও উৎসাহ প্রদান করা হেব।
পুনর্বাসন ও পুন:স্থাপন কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি পুন:স্থাপন ও উন্নয়ন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
ক্ষতিপ্রস্ত ব্যক্তিরা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
খনি উন্নয়নে ব্যবহারের পূর্ব পর্যন্ত সম্তত সময়ের জন্য চাষাবাদসহ অন্যান্য কাজে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ভূমি ব্যবহার করা যাবে।
প্রকল্পের জীবিকা পুনরূদ্ধার কর্মসূচীতে প্রশিক্ষণসহ অগ্রাধিকরমূলক কর্মসংস্থান ব্যবস্থা থাকবে যা স্থানীয় সমপ্রদায়ের জন্য সর্বাধিক সুফল নিশ্চিত করবে। এতে খনি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডে সৃষ্ট প্রায় ১৭,০০০(প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ) নতুন কর্মসংস্থানে স্থানীয়দের অগ্রাধিকারমূলক অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।