ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প

এক নজরে ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প

অধ্যায় ০১ প্রকল্পের বিষয়সমূহ

অধ্যায় ০১
প্রকল্প তথ্য বিবরণী

ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প

এশিয়া এনার্জি করপোরেশন (বাংলাদেশ) প্রপ্রাইটরি লিঃ (“এশিয়া এনার্জি”) লন্ডন ভিত্তিক জিসিএম রিসোর্সেস পিএলসি’র (জিসিএম) পূর্ণ মালিকানাধীন বাংলাদেশ অংশ যারা বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের উন্মুক্ত খনন পদ্ধতির একটি কয়লা খনি উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য কাজ করছে।

এশিয়া এনার্জি সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশগত ও সামাজিক মান বজায় রেখে খনি উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও খনি উন্নয়ন পরিকল্পনা ২ অক্টোবর ২০০৫ তারিখে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে পেশ করা হয়। খনি উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুসারে পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতায় ফুলবাড়ী কয়লা খনি থেকে বছরে ১৫ মিলিয়ন টন উন্নতমানের বিটুমিনাস জাতীয় কয়লা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে এশিয়া এনার্জি ১০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করেছে যা পর্যায়ক্রমে ২০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যাবে। ফুলবাড়ীর কয়লা ব্যবহার করে প্রায় ৪০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা অনুমোদন এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র জারী করে।

এশিয়া এনার্জি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের কাছে তার দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে খোলাখুলিভাবে এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতির আওতায় কাজ করছে। স্থানীয়, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদারদের সঙ্গেই এশিয়া এনার্জি কাজ করছে ও ভবিষ্যতেও করে যাবে। কোম্পানী পরিবেশ, সামাজিক ন্যায়বিচার, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন তথ্যাদির সম্পূর্ণ প্রকাশেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এশিয়া এনার্জি ২০০৬ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশে স্টক এক্সচেঞ্জ এ তালিকাভুক্তির জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে। কোম্পানির এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশী বিনিয়োগকারীদের এই বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পে অংশীদার হবার সুযোগ প্রদানে এশিয়া এনার্জি’র অঙ্গীকারেরই অংশ।

এক নজরে ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প

ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প অবস্থান মানচিত্র
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প এলাকার অবস্থান মানচিত্র
প্রকল্পের নামফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প।
প্রকল্পের অবস্থানপ্রকল্প এলাকা ঢাকা থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমে এবং দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী, নওয়াবগঞ্জ, বিরামপুর ও পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যে অবস্থিত। ফুলবাড়ী একটি ছোট শহর যা জাতীয় প্রধান সড়ক ও উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলীয় রেলওয়ের সাথে যুক্ত এবং এর ৪০ কিলোমিটার উত্তরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর অবস্থিত। ফুলবাড়ী থেকে ১৮ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত পার্বতীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলজংশন এবং এর সঙ্গে বাংলাদেশের সব বড় শহরসহ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের রেল সংযোগ রয়েছে। প্রকল্প এলাকাটি বরেন্দ্র অঞ্চলে অবস্থিত, যা একটি উঁচু মালভূমি এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের ২৫-৩২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। বরেন্দ্র এলাকার তুলনামূলক উঁচু ভূ-প্রকৃতির কারণে প্রকল্প এলাকা সাধারণভাবে বন্যামুক্ত। এই এলাকায় তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ ৩৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং শীতকালে সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস, মে মাসের শেষদিক থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ভারী ধরনের বৃষ্টিপাত হয়। বছরে গড় বৃষ্টিপাত ১,৮০০ মিলিমিটার।
প্রকল্প উদ্যোক্তাএশিয়া এনার্জি করপোরেশন (বাংলাদেশ) প্রপ্রাইটরি লিঃ, যা লন্ডন ভিত্তিক জিসিএম রিসোর্সেস পিএলসি’র (জিসিএম) বাংলাদেশী সাবসিডিয়ারী।
চুক্তিকয়লার অনুসন্ধান ও খনি উন্নয়নের জন্য এশিয়া এনার্জি এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত রয়েছে (চুক্তি নং-১১/সি-৯৪)।
লাইসেন্স/ইজারাএশিয়া এনার্জি মূল কয়লা সম্পদ এলাকার খনি ইজারা এবং তদ্‌সংলগ্ন অন্যান্য এলাকার অনুসন্ধান লাইসেন্স পেয়েছে (বর্তমানে তা খনি ইজারায় রূপান্তরের জন্য আবেদনকৃত ও বিবেচনাধীন রয়েছে)।
বর্তমান অবস্থাদু-বছরব্যাপী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষে খনি উন্নয়ন পরিকল্পনা সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে। প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। এশিয়া এনার্জি আশা করে শীঘ্রই খনি উন্নয়ন পরিকল্পনার অনুমোদন পাওয়া যাবে এবং সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে।
প্রকল্পের ধরণকয়লা খনি।
খনি পদ্ধতিউন্মুক্ত খনন পদ্ধতি।
কয়লাবিটুমিনাস জাতীয় কয়লা (উচ্চ তাপমান সম্পন্ন, অল্প ছাই ও অল্প সালফার যুক্ত)- তাপীয় (থারমাল) ও সেমিসফট কোকিং কয়লা (মেটালারজিক্যাল)।
মোট কয়লা সম্পদের পরিমান৫৭২ মিলিয়ন টন।
বাৎসরিক উৎপাদন ক্ষমতা১৫ মিলিয়ন টন।
কয়লার ব্যবহারদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, শিল্পকারখানা, ইটের ভাটা, এবং ব্রিকেট হিসেবে গৃহস্থালীসহ অন্যান্য কাজে।
সহ-সম্পদকাঁচবালি, নুড়িপাথর, চীনামাটি (কেওলিন), পানি।
প্রকল্পের মেয়াদ৩৫ বছরেরও বেশী।
মোট বিনিয়োগসরকারের কাছে জমাকৃত খনি উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী খনির মেয়াদকালে মোট মূলধনী বিনিয়োগের পরিমাণ ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যার অর্ধেকের বেশী খনি উন্নয়নের প্রথমদিকে ব্যয় হবে। পাশাপাশি খনির মেয়াদকালে পরিচালন ব্যয় হিসেবে আরও ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।
প্রকল্পের সময়সূচীসরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে ভৌত খনি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করে যতো দ্রুত সম্ভব বিদ্যুত উৎপাদনসহ দেশের অভ্যন্তরীন চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে কয়লা উত্তোলন করা। আশা করা হচ্ছে ভৌত খনি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরুর ৩ বছরের মধ্যে প্রথম কয়লা পাওয়া যাবে।
প্রকল্প এলাকাদিনাজপুর জেলার ৪ টি উপজেলা ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুর এর অধীন ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অংশ প্রকল্প এলাকার ভিতরে অবস্থিত।
প্রকল্পের মোট প্রয়োজনীয় জমিখনির মেয়াদকালে প্রায় ৫,৯৩৩ হেক্টর জমির প্রয়োজন হবে। তবে প্রকল্পে জমির ব্যবহার হবে পর্যায়ক্রমিক। খনি উন্নয়নের কোন পর্যায়েই প্রকল্পভুক্ত জমির এক তৃতীয়াংশের বেশী ব্যবহৃত হবে না।
ফুলবাড়ী শহরপৌরসভা ঠিক থাকবে তার পুনঃনির্ধারিত সীমানা নিয়ে। পূর্ব ফুলবাড়ী শহরের খুব সামান্য অংশ খনির ভিতরে পড়বে এবং একটি নতুন শহর ছোট যমুনা নদীর পশ্চিম পাশে বিদ্যমান পশ্চিম ফুলবাড়ীর বর্ধিতাংশরূপে গড়ে উঠবে।
জনগোষ্ঠীর স্থানান্তর ও পুনর্বাসনপ্রকল্পের মেয়াদকালে প্রায় ৪০,০০০ ব্যক্তিকে (দশ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে) স্থানান্তরের প্রয়োজন হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের তাদের পছন্দ অনুযায়ী নতুন সম্প্রসারিত শহর অথবা নতুন উন্নত গ্রামে পুনর্বাসন করা হবে, যেখানে শিক্ষা, চিকিৎসা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ উন্নত সকল নাগরিক সুযোগসুবিধাই থাকবে।
ক্ষতিপূরণপ্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জমি, সম্পদ ও জীবিকার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জীবিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, কৃষি, ব্যবসাসহ বিকল্প জীবিকা উন্নয়ন উদ্যোগে সহায়তা প্রদান করা হবে। তাদের কেউ বর্তমানের অবস্থা থেকে খারাপ অবস্থানে যাবে না বরং অধিকাংশের অবস্থা হবে উন্নততর।
খনি পুনর্বাসনউন্মুক্ত খনি ক্রমান্বয়ে ভরাট করে আগের উৎপাদনশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে; শেষাংশে খাদটি স্থানীয় জনগোষ্ঠির পানি সরবরাহ, বিনোদন ও মৎস্যচাষের জন্য একটি মিঠা পানির লেকে রূপান্তর করা হবে।
পানি ব্যবস্থাপনাখনি উন্নয়নকালে খনিখাদ শুঙ্ক রাখা এবং কাজের নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য খনি এলাকায় পানি উত্তোলন করতে হবে। এ প্রভাব মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি ও বসতবাটিতে পানি সরবরাহ করা হবে। নতুন শহর এবং বিদ্যমান ফুলবাড়ী শহর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আওতায় থাকবে। আশুরার বিলের প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক আবাস সংরক্ষণের জন্যও ছোট যমুনা নদী ও খারির পুলে কিছু পানি প্রবাহিত করা হবে। এতে প্রকল্প এলাকায় পানির অভাব হবেনা এবং প্রকল্পের কারণে কোন এলাকা শুকিয়েও যাবেনা। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত পৃথক সমীক্ষা করা হয়েছে।
পরিবেশপরিবেশগত প্রভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন প্রশমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা হবে এবং শব্দ, ধূলা ও বর্জ্যপানি গ্রহণযোগ্য মানমাত্রার ভিতরে রাখা হবে। পরিবেশগত সকল উপাদান সবসময় পর্যবেক্ষণাধীন থাকবে এবং খনির মেয়াদকালে সকল কার্যক্রম যাতে পরিবেশগতভাবে গ্রহণযোগ্য মাত্রার ভিতরে থাকে তা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
বাংলাদেশ সরকারের লাভ/প্রাপ্তিসরকারের আর্থিক বিনিয়োগ ও ঝুঁকি শূন্য। মুনাফার প্রায় ৫০% প্রাপ্তি ছাড়াও (এর অন্তর্ভুক্ত ৬% রয়্যালটি, ৪৫% কর্পোরেট ট্যাক্স এবং ২.৫% আমদানী শুল্ক) অন্যান্য সুফলের মধ্যে রয়েছে দেশে একটি সহজলভ্য দীর্ঘ মেয়াদী নতুন জ্বালানী শক্তির উৎস, সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন, নতুন শিল্প, নতুন যোগাযোগ অবকাঠামো, সম্ভাবনাময় সহযোগী শিল্পের বিকাশ, চাকুরীর সুযোগ সৃষ্টি, আঞ্চলিক উন্নয়ন, এবং দারিদ্র বিমোচন। এসব প্রাপ্তি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।