ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কার ইতিহাস
২০ আগষ্ট ১৯৯৪ সালে সম্পাদিত উত্তরাঞ্চলে কয়লা অনুসন্ধান ও খনি উন্নয়ন চুক্তির (নং– ১১/সি-৯৪) ধারাবাহিকতায় বিএইচপি-কে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় এলাকায় অনুসন্ধান লাইসেন্স প্রদান করা হয়। বিএইচপি ১৯৯৫-৯৭ সময়কালে উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন লাইসেন্স এলাকায় কয়লা অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করে এবং ১৯৯৭ সনের জানুয়ারীতে ফুলবাড়ীতে কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিএইচপি’র কোম্পানী পুনর্গঠন ও ব্যবসা লক্ষ্য পরিবর্তনের ধারাবাহিতায় দক্ষিণ এশিয়া থেকে কোম্পানী তাদের খনিজ সম্পদ খাতে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তি (নং ১১/সি-৯৪) ও বিদ্যমান খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালার অধীনে সরকারের পূর্ব অনুমোদন সহ এশিয়া এনার্জি’র কাছে বিএইচপি’র চুক্তি ও বিদ্যমান লাইসেন্স সমূহ হস্তান্তর করা হয়। এ লক্ষ্যে ১১ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৮ সালে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এশিয়া এনার্জি ফুলবাড়ী কয়লা সম্পদের অনুসন্ধান ও মূল্যায়ন অব্যাহত রাখে। ১ এপ্রিল ২০০৪ সালে ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্রের কেন্দ্রীয় লাইসেন্স এলাকাকে খনিজ এলাকা হিসেবে মঞ্জুর করা হয়। ইতিমধ্যে এশিয়া এনার্জি ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্রের প্রাক সম্ভাব্যতা জরীপ সম্পন্ন করে। ২০০৩ সনে লাইসেন্স এলাকায় অনুসন্ধান কুপ খননের মাধ্যমে আরও ভূতাত্ত্বিক তথ্য এবং কয়লা ক্ষেত্রের বিস্তৃতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
২০০৪-০৫ সময়কালে ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্রের বিস্তারিত ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ, কয়লা ক্ষেত্রের কারিগরী বাস্তবতা ও খনি উন্নয়নের সম্ভাব্য বিকল্প সমূহ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি আধুনিক খনি উন্নয়নের পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা জরীপ সম্পন্ন করা হয়। এ জরীপে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয় যে, ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্রে ৫৭২ মিলিয়ন টন মান সম্পন্ন উচ্চ তাপ জ্বলন ক্ষমতার বিটুমিনাস কয়লার সমৃদ্ধ মজুদ বিদ্যমান। আধুনিক উন্মুক্ত খনির মাধ্যমে এই কয়লাক্ষেত্র থেকে বছরে ১৫ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব, যা হবে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক জ্বালানীর দীর্ঘমেয়াদী উৎস।